প্রায় দুই বছর ধরে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের। চার বছর ধরে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না কোম্পানিটি। এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেও কোম্পানিটির শেয়ার দর কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহ শেষে রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সায়। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৩ টাকায়। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। শেয়ার দরের পাশাপাশি এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ডিএসইতে কোম্পানিটির ৫ লাখ ৮ হাজার ৩০৪টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ডিএসইর কর্মকর্তারা ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রিজেন্ট টেক্সটাইলের কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে এর কার্যক্রম বন্ধ দেখতে পান এবং সে তথ্য স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সিকিউরিটিজ আইনানুসারে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ থাকলে সে তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও স্টক এক্সচেঞ্জকে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানায়নি রিজেন্ট টেক্সটাইল।
সর্বশেষ ২০২০-২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছে রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস। এর পর থেকে কোম্পানিটি কোনো আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। ফলে কোম্পানিটির প্রকৃত আর্থিক ও ব্যবসায়িক তথ্য জানতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে রিজেন্ট টেক্সটাইলের আয় হয়েছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। যেখানে এর আগের হিসাব বছরে আয় ছিল ৮৬ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২০ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। যেখানে আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল প্রায় ৪ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির লোকসান বেড়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। ২০২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬২ পয়সা।
যেখানে আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল ৩১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৫২ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ২৮ টাকা ৪৬ পয়সা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোনো লভ্যাংশের সুপারিশ করেনি রিজেন্ট টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ।
২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলসের অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১২৮ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৪০ কোটি ৫ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ১২ কোটি ৮৬ লাখ ১২ হাজার ১৩৭। এর মধ্যে ৫৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪০ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।